প্রসঙ্গ: বিএনপি নেতার মোসাদ মিটিং, পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিক্রিয়া

Washington Bangla
By Washington Bangla May 14, 2016 21:05

সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা : করতেন ইসলামি ছাত্র শিবির। শিখেছেন, অনুশীলন করেছেন সেই রাজনীতি। তারপর বিএনপিতে যোগদান। পেট্রলবোমার জমানায় চট্টগ্রামে সহিংসতায় তার সাফল্য দেখে বিএনপি হাইকমান্ড তাকে পুরস্কৃতও করেছে, পদন্নোতি দিয়েছে। তিনি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী। সর্বশেষ খবর তার ইসলাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ কানেকশান।পত্র-পত্রিকায় খবরটি এসেছে। ইসরাইলভিত্তিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘জেরুজালেম অনলাইন ডট কম’ সম্প্রতি সংবাদটি জানিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ইসরাইলের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ডিপ্লোমেসি অ্যান্ড অ্যাডভোকেসির প্রধান মেন্দি এন সাফাদি সম্প্রতি ভারত সফর করেছেন। সেখানে বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক করছেন তিনি। ওইসব বৈঠকেই বাংলাদেশ সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘শিগগিরই সবক্ষেত্রে বাংলাদেশের দরজা ইসরাইলিদের জন্য খুলে দেয়া হবে। বাংলাদেশের আওয়ামী সরকারকে ক্ষমতাচ্যূত করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। নতুন সরকার ইসরাইলের সঙ্গে পূর্ণ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলবে।’ ওই বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশ থেকে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব আসলাম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে একটি গ্রুপ ছবি তোলেন সবাই। সেখানে ছবিতে বাম দিকে আসলাম চৌধুরীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। আর সামনেই বসে আছেন মেন্দি এন সাফাদি।

05142016_15_ishtiak_reja

আসলাম চৌধুরী বৈঠকের কথা স্বীকার করলেও ষড়যন্ত্রের কথা অস্বীকার করেছেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইমলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আসলাম চৌধুরীর বৈঠকের দায়িত্ব বিএনপি নেবে না।’ তবে আসলাম চৌধুরীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে কিনা তা এড়িয়ে গেছেন।আসলাম চৌধুরীর এই ইহুদি কানেকশানের মাঝেই ফাঁসি কার্যকর হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর। আর তার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখছি- পাকিস্তান ও তুরস্ক থেকে। বিএনপি নেতার মোসাদ কানেকশান, পাকিস্তানি ও তুর্কি প্রতিক্রিয়া- সবগুলোই এক সূত্রে গাঁথা বলে মনে হচ্ছে। আর তা হলো যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরোধিতা করা।

বিএনপির রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতে ইসলামী। পাকিস্তানের রাজনৈতিক মিত্র বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী। এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের বন্ধু নিজামী আর তার দলের রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতে ইসলামী। তুরস্কে ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি বা একে পার্টি আর জামায়াতে ইসলামী বিশ্বজুড়ে সহিংস ইসলামি সংগঠন ব্রাদারহুড নেটওয়ার্কের সদস্য। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং এর নেতাকর্মীদের সঙ্গে একে পার্টির যোগাযোগ অনেক পুরনো।

অন্যদিকে বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশ পাকিস্তান ধর্ম নিয়ে সন্ত্রাসী রাজনীতি করা দলগুলোর স্বর্গ। বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং ফাঁসি নিয়ে শুরু থেকেই নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে রেখেছে পাকিস্তান। বারবার বিরোধিতা করে পাকিস্তান এটাই প্রমাণ করছে যে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতারা এখনো পাকিস্তানিই। তুরস্ক সিরিয়ায় সন্ত্রাসী পাঠানোর সবচেয়ে সহজ পথ। আইএস’র সাথে এরদোগানের তেল বাণিজ্য সকলেই জানে। কুর্দিদের পাখির মতো মারছে প্রতিদিন এই এরদোগান। আবার সেই তিনি নিজামীর ফাঁসি কার্যকরের পর গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

বিএনপি মোসাদের সাহায্য চায় সরকার উৎখাতে। শেখ হাসিনার সরকার না থাকলে কার লাভ? কোন বড় অংক করা লাগে না এটা বুঝতে যে, সবচেয়ে বেশি লাভ হবে জামায়াতে ইসলামীর। যুদ্ধাপরাধের বিচার বন্ধ হবে। একইভাবে বাংলাদেশের জামায়াতের জ্ঞাতি ভাই তুরস্কের একে পার্টি, পাকিস্তানি জামায়াতে ইসলামি এবং পাকিস্তান সরকারের মতো বিএনপিরও লক্ষ্য এদেশে এই বিচার বন্ধ করা। এমন আচরণের মধ্য দিয়ে তুরস্ক নিজের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। পাকিস্তানের কোন ভাবমূর্তির প্রয়োজন নেই। তবে অবাক করা কাজ করেছেন আসলাম চৌধুরী। একবার জামায়াতের রাজনীতি করা মানে যে, আজীবন জামায়াতি থাকা তা প্রমাণ করলেন তিনি। মির্জা ফখরুল যত ঢাকবার চেষ্টা করুন না কেন, দলের ইহুদি কানেকশানের সংকেত দেয় মোসাদের কর্মকর্তার সাথে আসলামের মিটিং।

তবে মির্জা ফখরুলদের যুৎসই বার্তা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ইউসুফ এস রামাদান। বলেছেন, বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি বা দল ইসরাইলের কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি, দল বা গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক গড়লে তা হবে সেই ব্যক্তি বা দলের জন্য রাজনৈতিক আত্মহত্যা। ‘ফিলিস্তিনের নাকবা দিবস’ উপলক্ষে শনিবার দূতাবাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিন দূত এস রামাদান এ কথা বলেন।

তবে বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় বিএনপি যে বিচলিত তা প্রকাশ করেছেন ফিলিস্তিনি দূত নিজেই। তিনি জানিয়েছেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার সঙ্গে দেখা করে বলেছেন- মোসাদের সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই। এস রামাদান বলেন, তিনি বিএনপিকে বলেছেন- এ বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়া উচিত। কারণ এ ধরনের ঘটনা তাদের জন্য রাজনৈতিক আত্মহত্যা হতে পারে।

ফিলিস্তিন রাষ্ট্রদূত যাই বলেন না কেন, বিএনপির সাথে রাজনৈতিক মিত্রতা থাকবে আন্তর্জাতিক ফ্র্যানচাইজ জামায়াতে ইসলামির, যেমন ইসরাইলের সাথে সুসম্পর্ক থাকা তুরস্কের এরদোগানের। ইহুদিবাদী ষড়যন্ত্র বিস্তৃত আইএস থেকে শুরু করে পাকিস্তান হয়ে বাংলাদেশে, রগ কাটায় আর চাপাতি সংস্কৃতির বিস্তারে।

সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা
পরিচালক বার্তা, একাত্তর টেলিভিশন

(1)

Washington Bangla
By Washington Bangla May 14, 2016 21:05