জ্বী, আমি পরকীয়া করি, কোনো সমস্যা?

Washington Bangla
By Washington Bangla September 25, 2016 09:54

রোকসানা ইয়াসমিন রেশনা: এক্স হাজব্যান্ড এর ব্যবহার নিয়ে এতো কথা বলার কোনো মানে হয় না। তারা খারাপ ব্যবহার করে, গায়ে হাত তোলে, লুচ্চামী করে বেড়ায় বলেই তো ‘এক্স’ হয়ে যায়। আর ‘এক্স’ হয়ে যাওয়ার পর কোন নারী পরকীয়ার অপবাদ থেকে মুক্তি পেয়েছে?ওর থেকে সেই ভালো, সমাজের চোখে সতী সাধ্বী নারী হওয়ার চিন্তা মন থেকে মুছে ফেল। বর্তমান হাজব্যান্ডরা কি বউদের সাথে খুব ভালো ব্যবহার করে? যদি বউ তার অন্যায়কৃত কাজ মুখ বুঁজে সহ্য না করে প্রতিবাদ করে? বউ ততোদিনই ভালো থাকে, যতোদিন সব কিছু মুখ বুঁজে সহ্য করে। এর জন্য আমরাও তো কম দায়ী না। দিনের পর দিন বউদের মেরুদণ্ড বাঁকা দেখতে দেখতে হঠাৎ করে কোনো বউ এর মেরুদণ্ড সোজা দেখলে চোখ জ্বালা করে।

09252016_07_rokhsana_yasmin

মুখ বুঁজে খারাপ ব্যবহার মেনে নেয়ার ক্ষেত্রে আমরা নারীরা বলে থাকি সংসার তো করতে হবে। ইনকাম নেই, মা-বাবার বাড়িতে জায়গা হবে না, শেষ পর্যন্ত যাবো কই? অর্থাৎ আর্থিক নিরাপত্তা থাকলে মনে হয় খারাপ ব্যবহার সহ্য করে হাজব্যান্ডের সংসারে পড়ে থাকতো না। আসলেই কী তাই?

আমি প্রথম শ্রেণীর প্রতিষ্ঠিত কয়েকজন নারীকে খুব কাছ থেকে চিনি। তাদের একজন আমাকে উপদেশের ছলে বলেছিল, হাজব্যান্ডকে যত্ন করতে হয়, সে যতো খারাপ ব্যবহারই করুক না কেন, কিছু বলতে নেই। হাজার হলেও পুরুষ তো। বলা যায় না, কখন বিগড়ে গিয়ে আবার অন্যদিকে চোখ দেয়!

আরেকজন তো আরেক কাঠি উপরে। অন্য মেয়েকে বিয়ে করে হাজব্যান্ড তাকে কবে ছেড়ে গিয়েছিল, সেই দিবস ঘটা করে পালন করে, দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে আর বরণ ডালা নিয়ে অপেক্ষায় থাকে, যদি সে আবার ফিরে আসে, সেই আশায়।

আরেক জন আবার তার থেকেও উদার। হাজব্যান্ড দিনরাত মদ, ক্লাব, পার্টি, আর অন্য মেয়ে নিয়ে পড়ে থাকে। সারাদিন অফিস শেষ করে উনি বাসায় এসে রান্না করে অপেক্ষা করে কখন হাজব্যান্ড এসে তাকে ধন্য করবে। কাজের কাজ কিছুই হয় না, হোম সহকারিদের সামনেই জোটে অপমান। এর মাঝে আবার একান্ত হোম সহকারিটি প্রেগন্যান্টও হয়ে পড়ে।

কী আর করবে? টাকা ইনকামের সাথে ব্যক্তিত্ববোধের সম্পর্কটা অনেক বেশি(!) বলেই হয়তো সাথে করে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। দুইটা ঘন্টা, কিছু টাকা, ব্যস। বেচারা হোম সহকারি! কিছু টাকা হাতে নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা হয়ে যায় একদিন। আর তথাকথিত প্রতিষ্ঠিত নারীটির রুটিন আগের মতোই চলতে থাকে।

স্বামী সেই মাতাল হয়ে ঘরে ফেরে, কোন কোন দিন আবার ক্লাব থেকে উঠিয়ে আনতে হয়, আবার একজন নুতন সহকারি আসে, আবার অপমান……………..

সমস্যাটা আসলে এক্স বা বর্তমানে না, সমস্যাটা নারীদের মানসিকতায়। অর্থ একটা ফ্যাক্টর বটে, কিন্তু সব কিছু না। সব কিছু যদি হতো তাহলে প্রতিষ্ঠিত নারীরা বাধ্য পশু হয়ে পুরুষদের পা এর কাছে বসে থাকতো না।

আর এক্স মানে আমি মনে করি ইচ্ছায় হোক অনিচ্ছায় হোক ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলা ময়লা আবর্জনা ছাড়া আর কিছু না। ডিভোর্স হয়ে যাওয়ার পর বা কারোর অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর ঐ নরকের কীট, ময়লা আবর্জনা, ইতর কী বললো না বললো তাতে কী এসে যায়? তার কাছ থেকে পজিটিভ কোনো কথা আশা করা মানেই তো তাকে একটু হলেও গুরুত্ব দেয়া।

আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় ডিভোর্স বা অস্বাভাবিক মৃত্যুতে পরকীয়া নামক অপবাদ মাথায় নিতেই হয় একটা মেয়েকে। তাই তো সবাই কনফিডেন্টলি আমরা বলি না কেন, হ্যাঁ, প্রতিদিনের অত্যাচার সহ্য করার চেয়ে পরকীয়াই শ্রেয়। আমি দ্বিধাহীন চিত্তে উচ্চকন্ঠে বলবো এ কথা। কোনো সমস্যা?

(3)

Washington Bangla
By Washington Bangla September 25, 2016 09:54