১০ লাখ টাকা চাঁদা! না পেলে পর্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরালের হুমকি

Washington Bangla
By Washington Bangla December 16, 2016 08:31

১০ লাখ টাকা চাঁদা! না পেলে পর্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরালের হুমকি

স্টাফ রিপোর্টার: অন্য দশটি মেয়ের মতো মনোয়ারারও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতা তার স্বপ্ন পূরণের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। ছোটবেলায় পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ের পিঁড়িতে বসেও দাম্পত্য জীবনে কোনদিন সে সুখের ছোঁয়া পায়নি। তাই বাধ্য হয়ে নিজ ছেলে-মেয়েকে দেশে রেখে অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান সুদুর হংকং-এ। সেখানে গিয়ে কিছুটা সচ্ছলতার মুখ দেখলেও অনলাইন প্রতারণায় থমকে গেছে তার জীবনযুদ্ধ। কথিত অনলাইন প্রতারক জাহাঙ্গীরের প্রতারণার শিকার হয়ে তিনি এখন অনিশ্চিত গন্তব্যের যাত্রী। নানা প্রতারণার মাঝেও তার মনে সান্ত¦না যে- মনোয়ারা উপযুক্ত বিচার পাবেন। প্রতারক জাহাঙ্গীর ও তার সহযোগীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত হবে।

মনোয়ারা বেগমের বাড়ি য়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার তেরশিরা গ্রামে। তার বাবার নাম মহিজ উদ্দিন। পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে মনোয়ারা সবার বড়। তার বাবা-মা অত্যন্ত সহজ সরল প্রকৃতির। পড়ালেখা করে আদর্শ নারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন ছিল ছিল মনোয়ারার। কিন্তু পারিবারিক অসচ্ছলতা ও নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে এসএসসি পাশের পূর্বেই তার স্বপ্ন থেমে যায়। একটু বড় হতেই এলাকার কতিপয় দুর্বৃত্তের কুনজর পড়ে সুন্দরী মনোয়ারার উপর। পথে-ঘাটে, স্কুলে আসা যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের কেউ প্রেম প্রস্তাব আর কেউ তাকে ইভটিজিং করতো। যোগ্য-অযোগ্য সবাই মনোয়ারার পরিবারকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাতো। সেই সাথে নানা হুমকি ধমকি তো আছেই। অবশেষে বাধ্য হয়ে সুন্দরী মনোয়ারার সহজ সরল পিতা তাকে পার্শ্ববর্তী ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার দত্তপাড়া গ্রামের আবদুল হান্নানের ছেলে শাহজাহান কবিরের নিকট তাকে শরীয়াহ সম্মতভাবে বিয়ে দেন। মনোয়ারা স্বামী ছিল অসচ্ছল পরিবারে বেড়ে উঠা বেকার যুবক। কোন কাজকর্ম করতো না। চরম অশান্তিতে দিন কাটতে লাগলো মনোয়ারার। সুখের ছোঁয়া পাবার আশায় পরিবারের গ্লানি ধরে রেখেছিল মনোয়ারা। তার ঘরে জন্ম নেয় এক ছেলে, এক মেয়ে। মনোয়ারার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তার বাবা প্রথমত বেকার স্বামীকে ব্যবসা করার জন্য কিছু টাকা দেয়। কিছুদিন ব্যবসা করার পর সব টাকা লোকসান দিয়ে যথারীতি বেকারত্বের গ্লানি টানতে থাকে। এভাবে কেটে যায় কয়েকটি বছর। অবশেষে মনোয়ারার শ্বশুর বাড়ি ও তার বাবার বাড়ির লোকজনের সম্মতিতে তার পিতা শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ করে তার স্বামীকে লিবিয়া পাঠায়। শাহজাহান কবির লিবিয়া গেলেও মনোয়ারাদের পরিবারের ভাগ্যের চাকা ঘুরে না। দালালের খপ্পরে পড়ে জাল ভিসায় সে লিবিয়ায় দিশেহারা। পরবর্তীতে দেশ থেকে ঋণ করে আরো ২ লক্ষ টাকা পাঠিয়ে তার স্বামীর স্থায়ীভাবে লিবিয়ায় থাকা ও কাজের ব্যবস্থা করা হয়। কয়েকমাস ভালো কাটলেও লিবিয়া শুরু হয় যুদ্ধ। ৮/৯ মাস পর যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ থেকে অন্য সবার মতো খালি হাতে দেশে ফেরেন মনোয়ারার স্বামী শাহজাহান কবির। দেশে আসার ৩ মাস পর বাংলাদেশে সরকার থেকে ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপুরণ পেলেও মানুষ থেকে নেয়া ঋণের টাকার জন্য চাপ বাড়তে থাকে।

সময়ের সাথে সাথে মনোয়ারার ছেলে-মেয়েরা বড় হতে থাকে। নিজে প্রত্যাশিত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হলেও সে ছেলে-মেয়েকে সুশিক্ষায় শিক্ষায় করতে দৃঢ় প্রত্যয়ী। একইসাথে স্বামীর ও বাবার পরিবারে সুখের প্রদীপ এনে দিতে সে বদ্ধপরিকর। নতুন করে জীবনযুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার পরিকল্পনা করে মনোয়ারা। আর সেই পরিকল্পনা মোতাবেকই কাউকে না জানিয়ে প্রবাসী ব্যাংকের সহযোগিতায় ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর সবার অজান্তে মনোয়ারা নিরবে দেশ ছেড়ে পাড়ি জমান সুদুর হংকং। সেখানে একটি চাকুরি হয় মনোয়ারার। চাইনিজ দম্পতির বাচ্চাদের দেখাশুনা করেন। মাস শেষে বেতন পেলে তিনি ছেলে-মেয়ের পড়ালেখার খরচের পাশাপাশি স্বামী ও বাবার সংসারের জন্য খরচের টাকা পাঠান। মনোয়ারার পাঠানো টাকায় দু’ পরিবারের ভাগ্যের চাকা কিছুটা হলেও পরিবর্তন হতে থাকে। বর্তমানে মনোয়ারার একমাত্র মেয়ে ইন্টারমিডিয়েট ও একমাত্র ছেলে ৪র্থ শ্রেণীতে পড়াশুনা করে।

মনোয়ারা জানায়- ছোটকাল থেকেই তার প্রিয় ব্যক্তি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের কারণে সবসময় আওয়ামীলীগের পক্ষে তিনি ফেসবুকে প্রচারণা চালান। এ সুযোগে হংকং যাওয়ার ৮/৯ মাসের মাথায় জাহাঙ্গীর নামক সৌদি আরব প্রবাসী এক ছেলের সাথে মনোয়ারার ফেসবুকে পরিচয় হয়। তার বাড়ি পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ভদ্রকুলা গ্রামে। তার পিতার নাম মৃত কাশেম মাষ্টার। সে নিজেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভাতিজা বলে জানায়। প্রতিদিন মনোয়ারা ও জাহাঙ্গীরের ফেসবুকে চ্যাট হয়, ফোনে কথা হয়। জাহাঙ্গীর মনোয়ারার প্রতি দুর্বলতা প্রকাশ করেন। তার স্ত্রী মারা যায় গেছে বলে মনোয়ারাকে জানায়। কিন্তু চ্যাট হলে, ফোনে কথা হলেও মনোয়ারা তাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় তার স্বামী সংসারের কথা, দু’ সন্তানকে নিয়ে সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার কথা। কিন্তু জাহাঙ্গীর নাছোড়বান্দা। সে মনোয়ার ও তার দু’ সন্তানকে নিয়ে সুন্দর ভবিষ্যত স্বপ্ন গড়ার প্রলোভন দেখান। কিন্তু কিছুতেই সায় মিলেনা মনোয়ারার। সময় গড়াতে থাকে দুর্বারগতিতে। একপর্যায়ে জাহাঙ্গীর মনোয়ারাকে বিয়ে করার প্রলোভন দিয়ে বলে- পাবনায় ও সিরাজগঞ্জে তার বহুতল দু’টি বাড়ি আছে। সে একটি বাড়ি মনোয়ারার নামে রেজিষ্ট্রি করে দেয়ার পাশাপাশি মনোয়ারার নামে ব্যাংকে ৫ লাখ টাকা জমা রাখবে। এমনকি জাহাঙ্গীর মক্কা-মদিনায় গিয়ে কসম করে বলেছে সে কোন দিন তার সাথে প্রতারণা করবে না। জাহাঙ্গীর মনোয়ারার মন পেতে গিফ্ট ক্রয়ের জন্য তাকে ৪০ হাজার টাকা পাঠায়। তাকে সৌদি নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তার পাসপোর্টও সংগ্রহ করে। শেষ পর্যন্ত মনোয়ারা তাকে সরল মনে বিশ্বাস করে তার প্রস্তাবে সায় দেয়। দু’জনের সম্পর্ক গভীর থেকে গভীরে গড়ায়। দু’জন প্রতিদিন ফেসবুকে চ্যাটের পাশাপাশি ইমো, ভাইভারে ভিডিও কলে রসালো কথা বলেন। সুচতুর জাহাঙ্গীর বিভিন্ন সময়ে মনোয়ারার বিভিন্ন ভিডিও কলের নানা অঙ্গভঙ্গির ছবি মোবাইলে ষ্টিল ছবি করে রাখে।

সহজ-সরল মনোয়ারা যতই জাহাঙ্গীরের প্রতি দুর্বল হতে থাকে, জাহাঙ্গীর ততই তার প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ করতে থাকে। কিন্তু মনোয়ারা কিছুতেই জাহাঙ্গীরের প্রতারণা বুঝতে পারেনা। জাহাঙ্গীর মনোয়ারাকে বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে দেশে যাওয়ার কথা বলে। জাহাঙ্গীরের কথামতে মনোয়ারা দেশে আসার জন্য বিমানের টিকেট বুকিং দেয়। কিন্তু দিনক্ষণ ঠিক হওয়ার পর জাহাঙ্গীর দেশে আসতে পারবেনা বলে জানায়। এদিকে, বিমানের টিকেট বুকিং সহ আনুসাঙ্গিক কাজে মনোয়ারার প্রায় ৬০ হাজার টাকা গচ্ছা যায়। আগে পরে তো জাহাঙ্গীর তাকে বিয়ে করবে এ সান্ত¦নায় তার মন খারাপ হয়নি।

মনোয়ারা জানায়- ২০১৫ সালের শেষ দিকে জাহাঙ্গীরের সাথে কথা বলে দু’জনে দেশে আসার পরিকল্পনা করে। জাহাঙ্গীর স্পষ্ট জানিয়ে দেয় দেশেই এসে যাতে মনোয়ারা তার স্বামী শাহজাহান কবিরকে ডিভোর্স দেয়। অন্যথায় মনোয়ারা বিয়ে করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। এতে মনোয়ারা রাজী হয়। সবকিছু চূড়ান্ত করেই জাহাঙ্গীর আগে এবং মনোয়ারা পরে দেশে আসার দিনক্ষণ ঠিক করে। জাহাঙ্গীর মনোয়ারাকে ঢাকা হযরত শাহজালাল (র.) বিমানবন্দরে রিসিভ করবে বলে আশ্বাস দেয়। আর মনোয়ারা জাহাঙ্গীরকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাবে বলে প্রায় লক্ষাধিক টাকার বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র জাহাঙ্গীর ও তার পরিবারের সদস্যদের জন্য ক্রয় করে। আর এসব হাতিয়ে নিতে কৌশলের আশ্রয় নেয় জাহাঙ্গীর। যেদিন মনোয়ারার ফ্লাইট হয় হঠাৎ সেদিনই জাহাঙ্গীর মনোয়ারাকে ফোন করে জানায়- সে তার ছোট ভাই নাজমুলকে বিমানবন্দরে রেখে জরুরী কাজে বাড়িতে চলে গেছে। নাজমুলের কাছে যাতে তার জন্য আনা সকল গিফ্ট দিয়ে দেয়। পরে সুযোগ সুবিধা মতো তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে বলেও জানায়। সহজ সরল মনোয়ারা ঢাকা হযরত শাহজালাল (র.) বিমানবন্দরে পৌঁছলে জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই নাজমুল তার সাথে দেখা করলে সকল গিফ্ট তাকে বুঝিয়ে দিয়ে মনোয়ারা পৈতৃক নিবাস ময়মনসিংহ চলে যায়। বাড়িতে পৌঁছার পর মনোয়ারা জাহাঙ্গীরের কথামতো তার স্বামী শাহজাহান কবিরকে ডিভোর্স দিয়ে জাহাঙ্গীরকে স্বামী হিসেবে পাবার স্বপ্নে বিভোর ঠিক তখনি জাহাঙ্গীরের নাটকীয়তা শুরু হয়। মনোয়ারা জাহাঙ্গীরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে। কিন্তু প্রতারক জাহাঙ্গীর যে মোবাইল নম্বর দেয় তাতে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়। দেশে আসার কয়েকদিন পর চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি মনোয়ারা তার ছোট ভাই ও ছোট বোনকে নিয়ে জাহাঙ্গীরের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় সে পাবনার সাথিয়া উপজেলার ভদ্রকুলা গ্রামে পৌঁছলেও কিন্তু প্রতারক জাহাঙ্গীরের কথামতো তাদের বহুতল ভবনের খোঁজ মিলেনা। শেষ পর্যন্ত জাহাঙ্গীরে সন্ধান পাওয়া যায়। একটি ভাঙ্গাচোরা ঘরে জাহাঙ্গীর তার স্ত্রী-সন্তান সহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসবাস করেন। গন্তব্যে পৌঁছেই মনোয়ারা জাহাঙ্গীরের প্রতারণার বিষয়টি টের পায়। তারপর মনোয়ারা তার প্রতারণার বিচার চাইলে জাহাঙ্গীর ও তার পক্ষের লোকজন মনোয়ারাকে মারতে উদ্যত হন। একপর্যায়ে নিরুপায় মনোয়ারা সেখানে থেকে বাড়িতে চলে আসেন। একদিকে স্বামী সংসার হারানো, অন্যদিকে জাহাঙ্গীরের প্রতারণায় সর্বশান্ত মনোয়ারা। কি করবে ভেবে উঠতে পারছিল না। শেষ পর্যন্ত লোকলজ্জার ভয়ে কয়েকদিনের মধ্যেই তিনি আবার নিরবে হংকং চলে আসেন।

মনোয়ারা জানায়- জাহাঙ্গীরের প্রতারণা সামলে সে ফের জীবনযুদ্ধে মনোনিবেশ করে। কিন্তু জাহাঙ্গীরের প্রতারণা যেন থামে না। সে অসংখ্য ফেক আইডি করে মনোয়ারাকে ব্ল্যাকমেইলিং শুরু করে। সে তার আইডিও হ্যাক করে। একপর্যায়ে মনোয়ারার কাছে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। অন্যথায় মনোয়ারার ছবি এডিট কওে ফেসবুকে ভাইরাল করে দিবে বলে নানা হুমকি ধমকি দেয়। জাহাঙ্গীরের ব্ল্যাকমেইনিং থেকে রক্ষা পেতে মনোয়ারা সৌদি আরবে থাকা নাঙ্গলকোটের ঢালুয়া ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের মাসুদ মজুমদার নামক এক লোকের সাথে যোগাযোগ করে সহযোগিতা চান। সে বিষয়টি মিমাংশা করে দিবে বলে মনোয়ারাকে আশ্বস্ত করে। কিন্তু দিনের পর দিন সে তালবাহনা করতে থাকে। একপর্যায়ে ব্যবসার নাম করে মনোয়ারার কাছে ১ লক্ষ টাকা দাবি করে। কিন্তু মনোয়ারা টাকা না দেয়ায় সে জাহাঙ্গীরের সাথে আঁতাত করে অসহায় মনোয়ারার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লাগে। পারস্পরিক যোগসাজশে ইন্টারনেটে মনোয়ারার পর্ন ছবি ভাইরাল করে দিবে বলে নানা হুমকি ধমকি দেয়। অন্যথায় ১০ লক্ষ টাকা দ্রুত প্রদানের তাগিদ দেয়। ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি সহ জাহাঙ্গীর ও মাসুদের প্রতারণার বিভিন্ন কৌশল মনোয়ারা হংকং-এ বাংলাদেশ এ্যাম্বেসিকেও অবহিত করেছে।

মনোয়ারা বেগম বলেন- জাহাঙ্গীর একজন পেশাদার অনলাইন প্রতারক। সে প্রেমের অভিনয় করে পর্ন সংগ্রহ করে বিক্রি করে। আওয়ামীলীগের নাম ও শেখ হাসিনার ছবি ব্যবহার ও সুন্দরী মেয়েদের ছবি ব্যবহার করে করে সে শতাধিক ফেক আইডি তৈরী করে সহজ সরল ছেলে-মেয়েদের জিম্মি করে চাঁদা আদায় করে থাকে। মাসুদ, নাজমুলসহ অন্যান্য আরো অনেকে জাহাঙ্গীরের এ ধরনের প্রতারণার সাথে জড়িত রয়েছে। মনোয়ারা প্রতারক চক্রের খপ্পরে পরে শারিরীক ও আর্থিকভাবে এখন দিশেহারা। স্বামী সংসার হারিয়ে সে এখন অনিশ্চিত গন্তব্যের যাত্রী। তার একমাত্র মেয়েকে নিয়েও প্রতারক জাহাঙ্গীরের আপত্তিকর কটুক্তি তাকে মানসিক যন্ত্রনায় ভোগাচ্ছে।

মনোয়ারা বলেন- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী একজন নারী। তাঁর সুদৃঢ় নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছে। নারীর ক্ষমতায়নে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা প্রশংসনীয়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নারী- এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। আর আমাদের এত গর্ব, এত অহংকারের মাঝেও যখন অনলাইন প্রতারক কর্তৃক সহজ সরল নারীরা প্রতারিত হয় তখন আর আমাদের কষ্ট থামেনা। একজন নারী হয়ে আজ আমি নিজেও অনেক ভূক্তভোগী। অনলাইন প্রতারক জাহাঙ্গীর, তার সহচর মাসুদ আমার ১৭ বছরের সংসার জীবনসহ আমার সব স্বপ্ন কেঁড়ে নিয়েছে। তাদের প্রতারণায় আজ আমি সর্বশান্ত। এ মুহুর্তে আমার আত্মহত্যা ছাড়া কোন উপায় নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ সংশ্লিষ্ট সকলে শুনবেন কি- আমার জীবনের করুন ট্রাজেডি। উপযুক্ত শাস্তি হবে কি জাহাঙ্গীর ও মাসুদ সহ তাদের সহযোগী অনলাইন প্রতারকদের?

মনোয়ারা জানান- প্রতারক জাহাঙ্গীর ও মাসুদের বিভিন্ন প্রতারণার প্রয়োজনীয় প্রমাণ তার কাছে রয়েছে। সে তার ফেসবুকে একটি লাইভ ভিডিওতে জাহাঙ্গীর, মাসুদ ও তাদের সহযোগীদের প্রতারণার প্রেক্ষাপট দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তুলে ধরেছেন। মনোয়ারা জানায়- যতদ্রুত সম্ভব দেশে ফিরে সে এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেবে। তার মতো যাতে আর কোন নিরীহ-নিরপরাধ নারী-পুরুষ প্রতারক জাহাঙ্গীর ও মাসুদের অনলাইন প্রতারণার শিকার না হন সেজন্য তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ, র‌্যাব সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি চেয়েছেন।
অভিযোগ বিষয়ে বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করেও জাহাঙ্গীর ও মাসুদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

Washington Bangla
By Washington Bangla December 16, 2016 08:31