সংঘাতে জড়াচ্ছে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র?

Washington Bangla
By Washington Bangla December 30, 2016 05:36

সংঘাতে জড়াচ্ছে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র?

নতুন এক সংকটে জড়াতে যাচ্ছে রাশিয়া আর যুক্তরাষ্ট্র। গত শতাব্দীর আশি বা নব্বইয়ের দশকের মতো ঠাণ্ডা যুদ্ধ কিংবা আকারে-ইঙ্গিতে পরস্পরকে হুমকি-ধমকি নয়, বরং সরাসরি লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়তে যাচ্ছে দেশ দুটি। পরস্পরকে দোষারোপ আর অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্য দিয়ে বারুদের মতো উত্তপ্ত হয়ে উঠছেন দুই দেশের হর্তাকর্তারা। সিরিয়ায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে সমরসজ্জা, পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলোর স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক এবং সাইবার বিরোধে উত্তেজনা তুঙ্গে। দেশ দুটির মধ্যকার বিরোধ নিয়ে উইলসন সেন্টারের কেনান ইনস্টিটিউটের পরিচালক ম্যাথিউ রোজানস্কি বলেছেন, ‘এটা রীতিমতো যুদ্ধ, কোনো সন্দেহ নেই।’

সিরিয়ায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন নিয়ে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়াকে দোষ দিয়ে আসছে। রাশিয়া তাদের সে অভিযোগে কান দিচ্ছে না। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন নিয়েও পাল্টাপাল্টি চলছে দুই পক্ষের মধ্যে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতি বিনাশে রাশিয়া সাইবার আক্রমণ চালিয়ে তথ্য ফাঁস করতে চাইছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপের জন্য দেশটির রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর তারা সাইবার হামলা চালিয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তরের এ অভিযোগে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতাদের ই-মেইল হ্যাক করার সঙ্গে রাশিয়ার জড়িত থাকার যথেষ্ট প্রমাণ তাদের হাতে এসেছে।

রাশিয়া আলেপ্পোয় যুদ্ধাপরাধ ও সিরিয়ায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে_ যুক্তরাষ্ট্রের এমন অভিযোগ ওঠার পরই রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রে সাইবার হামলা চালাচ্ছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এসব কথায় কান দিচ্ছে না রাশিয়া। তারা অবিচলিতভাবে অস্বীকার করে যাচ্ছে সব মার্কিন অভিযোগ। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ যুক্তরাষ্ট্রের সব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘এসব নেহাত হাস্যকর কথাবার্তা। এর দ্বারা অন্যের মনোযোগ আকর্ষণের ব্যর্থ চেষ্টা করা হচ্ছে মাত্র। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন এসব কথা। কিন্তু আমরা তার দাবির কোনো সত্যতা খুঁজে পাইনি।’

রাশিয়ার বিরুদ্ধে ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতাদের ই-মেইল হ্যাক করার কথা উল্লেখ করে ডেমোক্রেটিক মনোনীত প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, রাশিয়া তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুকূলেই এসব কাজ করেছে। কারণ ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারের পর থেকেই রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের গুণকীর্তন করে আসছেন। তবে মস্কোয় একটি বিনিয়োগ ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন হিলারির অভিযোগ নাকচ করে দেন।

এরই মধ্যে আচমকা একটা পদক্ষেপ নিয়েছে রাশিয়া। পারমাণবিক নিরাপত্তা চুক্তি থেকে সরে গেছে তারা। মার্কিন আগ্রাসনের কথা বলে ইউরোপে ন্যাটো জোটভুক্ত দেশগুলোর সীমান্তে নিয়ে গেছে পারমাণবিক শক্তিসম্পন্ন মিসাইল ‘ইস্কান্দার’। কর্মকর্তারা প্রয়োজনে এই মিসাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করার কথাও বলছেন। এসব হলো বর্তমানে রুশ-মার্কিন সম্পর্কের উত্তেজনাপূর্ণ দৃশ্যের কয়েকটি মাত্র।

বার্লিন প্রাচীর ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই রুশ-মার্কিন স্নায়ুযুদ্ধের অবসান হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়। তার পর থেকে এ পর্যন্ত বর্তমান সময়টাকেই দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে সংঘাত-সংকটময় বলে ধারণা করা হচ্ছে। রুশ প্রেসিডেন্ট মিখাইল গরবাচেভ, যার সময়ে স্নায়ুযুদ্ধের অবসান হয়েছে। তিনি এই সংকট নিরসনে দুই দেশের মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন। এএফপির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে গরবাচেভ বলেন, ‘আমার আশঙ্কা হচ্ছে, পুরো বিশ্ব এক ভয়াবহ সংকটের দোরগোড়ায় গিয়ে পেঁৗছেছে। এই অবস্থা থেকে বাঁচতে হলে অবশ্যই দুই পক্ষকে খোলা মনে আলোচনায় বসতে হবে।’

রাশিয়ার ম্যাকআর্র্থার ফাউন্ডেশনের সাবেক পরিচালক ইগোর জেভেলেভ বলেন, ‘এটা আসলে ঠাণ্ডা যুদ্ধ নয়। এটা আসলে এক অনিশ্চিত বিপজ্জনক সময়।’ যে অবস্থা চলছে, তাতে মনে হয় না শিগগিরই দুই দেশের এই উত্তেজনায় ভাটা পড়বে। দুই দেশের রাজধানীর মধ্যে যে সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা ছিল, তা ব্যবহারের মাত্রা কমে এসেছে। ফলে ‘ঢিলটি ছুড়লে পাটকেল মারা’র নীতিতে এগিয়ে চলছে বিশ্বের পরাশক্তি হিসেবে স্বীকৃত দুই দেশ। কূটনীতিবিদদের মতে, তারা পরস্পরকে বোঝার চেষ্টা না করে ঘটনা স্রোতে গা ভাসিয়ে দিয়ে সত্যিকারের চরম পর্যায়ের দিকে দ্রুত এগিয়ে চলেছে।

Washington Bangla
By Washington Bangla December 30, 2016 05:36