রবীন্দ্রনাথ আমাদের সবার আশ্রয় : একান্ত সাক্ষাৎকারে লুৎফুন নাহার লতা

Washington Bangla
By Washington Bangla February 22, 2017 21:23

রবীন্দ্রনাথ আমাদের সবার আশ্রয় : একান্ত সাক্ষাৎকারে লুৎফুন নাহার লতা

এ্যন্থনী পিউস গমেজ, ভার্জিনিয়া : বাংলাদেশের আশির দশকের বহুল জনপ্রিয়, সাড়া জাগানো অভিনয় শিল্পী লুৎফুন নাহার লতা। অনেকগুলো জনপ্রিয় টিভি সিরিয়ালে এবং জনপ্রিয় সাপ্তাহিক নাটকে অভিনয় ক’রে সবার মন জয় করে নিয়েছিলেন লুতফুন নাহার লতা। বহুব্রীহি, এইসব দিনরাত্রি, প্রতিশ্রুতি, আশ্রয়, শেকড়, প্রতিদন্দী, চর আতরজান, লাগুক দোলা, একা একা, নিলয় না জানি, ঘটনা সামান্য, গাছ ও মানুষ, উৎসব উৎসব, সৈকতে সারস, ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্কে অভিনিত দূরে বহুদূরে ও অভিবাসি সহ আরো অসংখ্য দর্শক নন্দিত নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। এছাড়া ঢাকার জনপ্রিয় গ্রুপ থিয়েটার “নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ে”র প্রযোজনায় সৈয়দ শামসুল হকের “নুরুলদীনের সারাজীবন” ও দেওয়ান গাজীর কিসসা’র মত জনপ্রিয় নাটকে অভিনয় করে বাংলাদেশ এবং ভারতের দর্শকদের হৃদয়ে একজন দক্ষ অভিনেত্রী হিসেবে বিশেষ স্থান করে নিয়েছিলেন। মঞ্চ এবং টিভি দু’টো মাধ্যমেই ছিল তার দাপটের সাথে বিচরণ। তিনি শুধু অভিনয় শিল্পীই নন- একজন বাচিকশিল্পী ও বটে। ( শুরুতে বাবার হাত ধরে আবৃত্তি শেখা, পরে বাংলাদেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় বাচিকশিল্পী জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়ের কাছে, যিনি তার গুরু ), তিনি একজন সফল মঞ্চ সঞ্চালক এবং লেখক। ২০১৩ তে, একুশের বই মেলায় বেড়িয়েছে তার কবিতার বই “চাঁদের উঠোন” এবং গল্পের বই “জীবন ও যুদ্ধের কোলাজ”। এবার সবার অনুরোধে বের করেছেন আবৃত্তির এ্যলবাম ” আমার রবীন্দ্রনাথ।” দেশে থাকাকালীন সময়ে শিল্পকলার সাথে যোগ হয়েছিল তার মানবতাবাদী ব্যক্তিত্বের। এগিয়ে এসেছিলেন মানুষের অধিকার আদায়ে সোচ্চার কন্ঠ নিয়ে। বাংলাদেশে থাকাকালীন সময়ে তিনি ছিলেন একজন স্বক্রীয় সোসাল একটিভিস্ট।

আজ লুৎফুন নাহার লতা প্রবাসী, আপাতপ্ত স্থায়ী হয়েছেন নিউ ইয়র্ক শহরে। তিনি দুঃখ করে বলেন- “দেশের মায়া ছেড়ে এদেশে নিজের ভবিষ্যতের আসায় এদেশে আসিনি, নিপিড়িত মানবতার সেবা করতে গিয়ে কর্মপ্রবাহে বাঁধাগ্রস্থ হয়ে দেশের বিরাজমান পরিস্থিতির কারণেই আমি দেশ ছেড়ে প্রবাসী হতে বাধ্য হয়েছিলাম। দেশকে আমি ভালবাসি,স্বদেশের মাটি,স্বদেশের মানুষ… আমার কৃষ্টি-সংস্কৃতি আমার হৃদয়ের গভীরে প্রোথিত হয়ে আছে অক্ষয় অনুভূতির ছোঁয়ায়।” যে শিল্প-সংস্কৃতির সাথে ছিল তার নাড়ীর টান, যে শিল্প-সংস্কৃতির ছোঁয়ায় আলোকিত ছিল তার আপন ভূবন, যে সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে তিনি খুঁজে পেয়েছিলেন তার স্বপ্নের রংধনু … যে শিল্পকলার সাথে জড়িয়ে ছিল তার অস্তিত্ব- সে জীবন থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করাটা কোনক্রমেই সহজ ছিলনা তার জন্য। দেশ ছেড়ে আসার কষ্ট আজও বেদনার্ত অনুভূতিতে আপ্লুত করে, কখনো কখনো একাকিত্বের মুহূর্তগুলোতে যখন ফিরে যান মা-মাটি- মানুষের কাছে, ঘুরে বেড়ান সেইসব চিরচেনা মানুষগুলোকে নিয়ে গড়ে তোলা স্মৃতির এ্যলবামে, এক অব্যক্ত কষ্টের নস্টালজিয়ায় হয়তোবা ভিজে উঠে তার দুই চোখ। এ দুঃখ বিলাস নয়- শেকড়ের টান, শিল্পীর অনুভব!

সেই দর্শক নন্দিত অভিনেত্রী, বহু গুনে গুনান্নিতা লুৎফুন নাহার লতা এবার প্রথমবারের মত আসছেন ওয়াশিংটন মেট্রো এলাকায় সকল শ্রোতা-দর্শকদের সাথে নতুন করে মিতালী করতে এবং তাদের মন জয় করে নিতে। আসছেন আমাদের “গানের ভেলায়, বেলা অবেলায়- ফাগুন সন্ধ্যা” অনুষ্ঠানে। তিনি আসবেন, মেতে উঠবেন শিল্পীদের সাথে আলাপচারিতায়, আবৃত্তির ঝংকারে নিয়ে যাবেন আমাদের অন্য এক ভুবনে… যেখানে আমরা খুঁজে পাবো আমাদের বহু দিন আগের সেই লুৎফুন নাহার লতাকে… যাকে আমরা মিস করছি প্রায় তিন দশকেরও বেশী সময় ধরে। আমাদের এখানকার সংস্কৃতিমনা শ্রোতা-দর্শকদের সাথে লুৎফুন নাহার লতার গড়ে উঠবে সম্পর্কের এক নতুন সেতুবন্ধন।

আমরা প্রতীক্ষায় আছি সেই দিনটির জন্য, যেদিন মঞ্চে শ্রেয়া গুহঠাকুরতা এবং পিনু সাত্তারের সাথে থাকবে আমাদের অতি প্রিয় লুৎফুন নাহার লতা- ভরিয়ে দেবে আমাদের সন্ধ্যাটিকে এক নান্দনিক আনন্দ অনুভূতিতে।কিছুদিন আগে এরই রেশ ধরে একদিন সন্ধ্যায় আলাপচারিতায় মেতে উঠেছিলাম লতার সাথে, জানতে চেয়েছিলাম ব্যক্তি লতাকে, নতুন করে আবিষ্কার করতে চেয়েছিলাম শিল্পী লতাকে এবং তারই আলোকে আজকের এই প্রতিবেদন- শুধুই লুৎফুন নাহার লতাকে নিয়ে! আসুন আপনাদের একটু ভিন্নভাবে পরিচয় করিয়ে দিই আমাদের সবার প্রিয় অভিনয় শিল্পী লুৎফুন নাহার লতার সাথে… ।

নিজের সম্পর্কে কিছু বলুন।
লুৎফুন নাহার লতাঃ আমার জন্ম খুলনা শহরে, সেখানেই আমার ছোটবেলার বেড়ে উঠা, হাই স্কুল এবং উচ্চ মাধ্যমিক সেখানেই শেষ করেছি। এরপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনা বিভাগে অনার্স এবং মাস্টার্স শেষ করে ঢাকায় আমার কর্ম জীবনের শুরু, সেই সাথে গ্রুপ থিয়েটার এবং টেলিভিশন অভিনয় জীবনেরও শুরু।
আমি সংস্কৃতির রসধারায় সিক্ত হতে চেয়েছি আজীবন, তারই ধারা অব্যাহত ছিল ঢাকায় এসেও। এটা সংস্কৃতির নেশা মূলতঃ যা আমার রক্তের সাথে মিশে ছিল।
আপনি সংস্কৃতির জগতে জড়ালেন কিভাবে? কিভাবে এলেন অভিনয় জগতে?
লুতফুন নাহার লতাঃ ছোটবেলা থেকেই এক পারিবারিক সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে আমার বেড়ে উঠা। আমার বাবা-মা দু’জনেই ছিলেন সংস্কৃতিমনা এবং আমার প্রেরণার উৎস। বাবার হাত ধরেই একরকম এই সংস্কৃতির জগতে আমার পদচারনা শুরু। তাদের অনুপ্রেরণাই আমার পাথেয় হয়ে আছে সারা জীবন। এছাড়া ছোটবেলায় স্কুলে থাকাকালীন সময় থেকেই বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা, অভিনয়, আবৃত্তি,গান ইত্যাদিতে অংশ নেয়া আর সেইসময় থেকেই খুলনা বেতারে উপস্থাপনা, সংবাদ পাঠকের কাজ করেছি, রেগুলার নাটকেও অংশ নিয়েছি। পরে ঢাকায় এসেও যা অব্যাহত ছিল বেতার, মঞ্চ এবং টিভি’তে। তবে আমার এই শিল্পী জীবনে আমার স্কুল-কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবদানও অপরিসীম! তাদের কাছে আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই এবং তাদের ঋন আমি কখনো শোধ করতে পারবো না।
সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে একজন শিল্পী হিসেবে আপনার অস্তিত্ব, আপনার পথচলা। ব্যক্তি লতা এবংশিল্পী লতা- দু’জনকেই প্রভাবিত করে বা উদ্বুদ্ধ করে- এমন কেউ কি আছে?
লুতফুন নাহার লতাঃ অবশ্যই আছে… শিল্পী সত্বা হয়তো আমার রক্তের মাঝেই মিশে ছিল। আমার পথচলার শুরু আমার বাবা-মা এবং শিক্ষকদের অনুপ্রেরণায়, কিন্তু একজন শিল্পী হিসেবেই শুধু নয়, একজন মানুষ হিসেবেও বোধোদয়ের পর থেকে পথ চলতে গিয়ে যাদের আলোয় আলোকিত হয়েছে আমার আপন ভুবন- তারা হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কাজী নজরুল ইসলাম সহ সকল অসাধারন মুক্ত মনের মানুষেরা। স্কুল জীবন থেকেই নজরুল ইসলামের কবিতা এবং গানের সাথে পরিচয়, তার গান এবং সুরের অনুরনণ আমাকে আপ্লুত করেছে। প্রথম ভালোবাসতে শিখিয়েছে।
বাবার অনুপ্রেরণায় সঙ্গীতে তালিম নিয়েছি এবং গান করেছি আর কবিগুরু রবীন্দ্রনাথকে যদিও জেনেছি অনেক ছোট্ট বেলায় তবুও তা ছিল নিতান্তই অপরিপক্ক। রবী ঠাকুরকে মূলতঃ আমি বুঝতে শিখেছি জানতে শিখেছি আরো পরে। যখন জীবনকে বুঝতে শুরু করেছি, তাঁর সৃষ্টিতে, গানে-কবিতায় তাঁর কথার তাৎপর্য বুঝতে শিখেছি কলেজ জীবনে এসে। রবী ঠাকুরের সৃষ্টির আলোয় উদ্ভাসিত আমাদের জীবন- তাঁর গান, কবিতা, গল্প-উপন্যাস, তাঁর সমস্ত সৃষ্টির আলো ছড়িয়ে আছে আমাদের জীবন জুড়ে। তিনি আছেন আমার মানস জুড়ে, আমার অন্তর জুড়ে। তিনি আছেন আমাদের সুখে-দুঃখে, হাসি-আনন্দে, বিরহ-মিলনে, অভিমানে-বেদনায়… একাকার হয়ে মিশে আছেন আমাদের জীবনে। মনে হয় যেন রবীন্দ্রনাথকে ছাড়া জন্মই বৃথা হত। পৃথিবীর সমস্ত কিছু থেকে যখন নিজেকে বিচ্ছিন্ন মনে হয়, চারিদিকে যখন আর কেউ নেই, তখন মনের গভীরে এই কথাগুলো আমাকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় তাঁর কাছে, তার আশ্রয়ে। মনে মনে বলি, “জানি বন্ধু, জানি- তোমার আছেতো হাতখানি”!
রবীন্দ্রনাথকে এত গভীরভাবে অনুভব করেন?
লুৎফুন নাহার লতাঃ হ্যা, ভীষণভাবে। মনে হয় রবীন্দ্রনাথ যেন আমার জন্ম-জন্মান্তরের আশ্রয়, তিনি আমার হাত ধরে আছেন পরম মমতায়। আমার কাছে রবী ঠাকুর কোন সাদা চুল-দাড়িওয়ালার অবয়বে কোন বৃদ্ধ মানুষ নয়- তিনি আমার কাম্য পুরুষ! আমার সব কিছুতেই, সমস্ত অনুভূতি জুড়ে আছেন।
রবীন্দ্রনাথ আমাদের সবার জন্য অবিস্মরণীয় পাওয়া! সারা বিশ্বকে বলতে চাই- “বাঙালি মেয়ে হিসেবে আমি গর্বিত, কারন আমার আছে রবীন্দ্রনাথ। আমি রবীন্দ্রনাথকে পেয়েছি… রবীন্দ্রনাথ আমাদের”! আমার মনে হয় রবীন্দ্রনাথকে জানা, রবীন্দ্রনাথকে উপলব্ধি করা আমাদের সবার ভীষণ প্রয়োজন… বলতে বলতে লতা গুন গুন ক’রে খালি গলায় দু’লাইন গেয়ে শোনালেন-
“কোন সে ঝড়ের ভুল, ঝরিয়ে দিল ফুল…..”
অত্যন্ত মিষ্টি এবং সুরেলা গলা! লতার অভিনয়, আবৃত্তির কথা জানতাম কিন্তু এগুনটির কথা জানা ছিলনা। এক নতুন লতাকে আবিষ্কার করার সুযোগ পেলাম।
আবৃত্তি করেন এখনও?
লুৎফুন নাহার লতাঃ কখনো কখনো করি। যখন সাংস্কৃতিক কোন অনুষ্ঠান থেকে ডাক পড়ে। দেশের মত করে এখানকার জীবনধারায় সম্ভব না। আত্মীয়-বন্ধু- শুভান্যুধ্যায়ী-ভক্তদের অনুরোধ সত্বেও কখনো হয়ে উঠেনি আবৃত্তির কোন এ্যলবাম বের করা। তাই শেষ পর্যন্ত উদ্যোগ নিয়ে এবার করেছি… আবৃত্তির একটি সিডি বেরিয়েছে রিসেন্টলি, “আমার রবীন্দ্রনাথ” নামে শুধু তাঁর কবিতা নিয়ে।
প্রবাসে সাংস্কৃতিক চর্চা এবং তরুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য আপনার অভিমত কি?
লুৎফুন নাহার লতাঃ প্রবাসে আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে সন্দেহ নেই, আবার কাজ হচ্ছেও। তবে এখানে প্রবাসীদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় অনেক সংগঠনও গড়ে উঠেছে। অভিজ্ঞতার অভাবে এসব সংগঠনে সুস্থ্য ধারার মৌলিক সাংস্কৃতিক চর্চার অভাব হচ্ছে বেশ। অনুষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু অনুষ্ঠানের গুনগত মান কমে যাচ্ছে। এদিকটাতে সংগঠকদের এবং বাংলা সংস্কৃতির যারা বোধ্যা এবং সেবক, তাদের বিশেষ যত্নবান হতে হবে বলে মনে করি।
এখনও কি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নিয়মিত অংশগ্রহন করেন?
লুৎফুন নাহার লতাঃ নিয়মিত নয়, তবে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিবেশনা করি। আর আমাদের বাংলা সংস্কৃতির বাইরেও বৃহত্তর
পরিমন্ডলে কিছু কাজ করার চেষ্টা করেছি… যেমন আমেরিকান কিছু টিভি সিরিয়ালে কাজ করেছি, ল’ এন্অড অর্ডার, সেক্স ইন দ্যা সিটি ইত্যাদি ছাড়াও অফ অফ ব্রডওয়েতেও কাজ করেছি।
ওয়াশিংটনে এই প্রথমবারের মত আসছেন আমাদের “গানের ভেলায়, বেলা অবেলায়- ফাগুন সন্ধ্যা” অনুষ্ঠানে। আপনার অনুভূতি কি?
লুতফুন নাহার লতাঃ খুবই ভাল লাগছে… ওয়াশিংটনে সব শ্রোতা-বন্ধুদের সাথে দেখা হবে। আপনাদের সাথে দেখা হবে- এটাই বিরাট আনন্দের বিষয়। আপনাদের মত আমিও আশায় বসে আছি। এছাড়া আমি শ্রেয়া গুহঠাকুরতার একজন ভক্ত- ভাবতে ভীষণ ভাল লাগছে তার সাথে দেখা হবে। অসাধারণ একজন সঙ্গীত শিল্পী শ্রেয়া। ওয়াশিংটনবাসী সবাইকে এই চমৎকার আয়োজনে আসার আমন্ত্রন রইল- আসুন, আপনাদের সাথে দেখা হবে এই অনুষ্ঠানে।
লুতফুন নাহার লতার সাথে কথা বলতে বলতে কখন এতটা সময় পেরিয়ে গেছে বুঝতে পারিনি। তবে ভীষণ ভাল লেগেছে তার সাথে কথা বলে। এক নতুন লতাকে আবিষ্কার করেছি, তার অজানা গুনগুলোর কথা জেনেছি, অবশ্যই সেখানে বোনাস ছিল- তার মিষ্টি গলায় গুন গুন ক’রে গাওয়া গানের কলি।
প্রবাসের ব্যস্ত জীবনধারার মাঝে সংস্কৃতির প্রতি, স্বদেশ এবং স্বদেশের মানুষের প্রতি অন্তরে গভীর ভালবাসা নিয়ে বহমান আমাদের সবার প্রিয় অভিনেত্রী, লুৎফুন নাহার লতার প্রবাসী জীবনধারা।
প্রতীক্ষায় আছি ওয়াশিংটন মেট্রো এলাকায় তার আসার আমাদের “গানের ভেলায়, বেলা অবেলায়- ফাগুন সন্ধ্যা” অনুষ্ঠানে।
শুভরাত্রি জানিয়ে বিদায় নিলাম- তখনো বার বার তার সাজানো সুন্দর কথাগুলো ফিরে ফিরে আসছিলো, তার মিষ্টি গলার আওয়াজটা বেজে যাচ্ছিল কানে তার গাওয়া গানের সুরে। মনে পড়ে গেল কিছুক্ষণ আগে আলাপচারিতায় তার বলা কথাগুলো- “রবীন্দ্রনাথ আমার আশ্রয়”, “সারা বিশ্বকে বলতে চাই- বাঙালি মেয়ে হিসেবে আমি গর্বিত, কারন আমার আছে রবীন্দ্রনাথ, আমি রবীন্দ্রনাথকে পেয়েছি… রবীন্দ্রনাথ আমাদের!!” মনে মনে ভাবত লাগলাম- চমৎকার অনুভব লতা! আমরাও গর্বিত রবীন্দ্রনাথকে পেয়ে, রবীর আলোয় আলোকিত বাঙালির জীবন, আপনার মত অসংখ্য বাঙালির আশ্রয় আমাদের ‘রবীন্দ্রনাথ’!!!

(0)

Washington Bangla
By Washington Bangla February 22, 2017 21:23