‘পালকি’ প্রবাস-প্রজন্মে গ্রাম-বাংলার প্রতিচ্ছবি

Washington Bangla
By Washington Bangla August 23, 2017 08:54

‘পালকি’ প্রবাস-প্রজন্মে গ্রাম-বাংলার প্রতিচ্ছবি

ওয়াশিংটন: গ্রাম-বাংলার সাথে প্রবাস-প্রজন্মকে পরিচিত করতে অনবদ্য একটি প্রয়াস ছিল ‘পালকি’। শুধু তাই নয়, প্রথম প্রজন্মের সাথে দ্বিতীয় প্রজন্মকে এ নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে যুক্ত করে অনন্য এক উদাহরণ তৈরী করলো রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি সংলগ্ন প্রবাসীদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক (বাই) । একইসাথে, এই নাটকের উদ্বৃত্ত তহবিল বাংলাদেশের বন্যার্তদের জন্যে ব্যয়ের ঘোষণাও দেয়া হয়েছে। নাটকের আয়োজক ও উপস্থিত দর্শকদের বাংলাদেশের বন্যাদুর্গত মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর এ আহ্বান জানান নাটকটির গ্র্যান্ড স্পন্সর ‘পিপলএনটেক’র সিইও ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিপ। গত ১৯ ও ২০ আগষ্ট (শনি এবং রোববার) দুই দিনে এই পালকি’র মোট চারটি শো মঞ্চস্থ হয়েছে ভার্জিনিয়ার আনানডেলস্থ নোভা কলেজের আর্নেষ্ট কালচারাল সেন্টারে। শনিবার সন্ধ্যা পাঁচটা এবং আটটায়, রোববার বেলা তিনটা এবং ছয়টায়-এই মোট চারটি প্রদর্শনী হয়। “ঘুড়ি” এবং “ঢেউ” এর দারুন সাফল্যের পর ‘বাই’ এর তৃতীয় পরিবেশনা “পালকি”কে ঘিরে যথেষ্ট উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছিল ভার্জিনিয়াসহ আশপাশের অঙ্গরাজ্যসমূহে।

নাটকটির স্ক্রীপ্ট লিখেছেন সফি দেলোয়ার কাজল এবং পরিচালনা করেছেন কামরুল খান লিঙ্কন। কোরিওগ্রাফার ছিলেন রুমা খান। আর এর বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন সামারা এলাহি, অদিতি চৌধুরী, শফিকুল ইসলাম, কুলসুম রহমান, প্রণব বড়–য়া, রুমি মাহমুদ, শাহীন জাহাঙ্গির, তাসিন প্রমুখ। ‘পালকি’ মঞ্চায়নে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটাতে সহায়তা করেছে ইউনিভার্সিটি অব ভার্জিনিয়া এবং ক্যালিফোর্নিয়ার লয়োলা মেরিমাউন্ট ইউনিভার্সিটির নাটক বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীরা। অভিনয় এবং অন্যান্য পর্বে অংশগ্রহণকারিদের মধ্যে ছিলেন জর্জ ম্যাসন ইউনিভার্সিটি, জেমস মেডিসন ইউনিভার্সিটি, নর্দার্ন ভার্জিনিয়া কম্যুনিটি কলেজ, ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড এবং জর্জ ওয়াশিংটন ইউসিভার্সিটির বাংলাদেশী বংশোদ্ভূতরা।

‘পালকি’ ছিল পল্লী বাংলার এক ষোড়শীর জীবন গাঁথা। বাংলাদেশের শহরতলীতে হিজলতলী গ্রামের ইছামতি নদীর তীরে মাস্টার বাড়ির দুই মেয়ে শিমুল এবং পালকি। দু’বোনের জীবনের হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনার এক রূপকল্প হচ্ছে এই নাটক। তবে এর কাহিনী বিন্যাসে পালকির জীবনের নানা বাঁক-ই পরিস্ফুটিত হয়েছে। তার দুরন্তপনা, ছেলে মানুষী, জীবনের কাছে তার প্রত্যাশা, তার ভাবনা, তার স্বপ্ন, সবকিছুই ফুটে উঠেছে বিভিন্ন দৃশ্যে। সংলাপ আর অনবদ্য পরিবেশনায় পালকির জীবন-কাহিনীকে উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে মুলত: বাংলাদেশের অজপাড়াগাঁয়ের বস্তুনিষ্ঠ একটি চিত্রই দর্শকরা অবলোকন করেন। একইসাথে মা মেয়ের সম্পর্ক, বোনের সাথে বোনের সম্পর্ক, বাবা-মেয়ে আর প্রতিবেশীর সাথে একেকজনের সম্পর্কের অপরূপ একটি চিত্র দর্শকের হৃদয় স্পর্শ করে গেছে। আর এমন সম্পর্কের মধ্য দিয়েই প্রকাশিত হয়েছে আবেগ, ভালবাসা, রাগ, অনুরাগ, আনন্দ-বেদনা, আশা-অনুশোচনা এবং কৃতজ্ঞতার বিষয়গুলো।

মূলমঞ্চে এবং গীতি-আলেখ্য মঞ্চায়নের আগে সংক্ষিপ্ত এক অনুষ্ঠানে বিশেষ সম্মাননা জানানো হয় প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি বিকাশে সহযোগিতার জন্যে ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিপ এবং প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. ফাইজুল ইসলামকে। উল্লেখ্য, এমন একটি বড় বাজেটের ‘পালকি’ মঞ্চায়নেও প্রয়োজনীয় অর্থ-সহায়তা প্রদানকারিদের অন্যতম ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার হানিপ এবং ড. ফাইজুল। বিশেষভাবে সহায়তাকারিদের মধ্যে আরো ছিলেন ড. বশির আহমেদ, আবু সোলায়মান, ওয়াহেদ হোসেনী, ফিরোজুর রহমান, ড. মাহতাব আহমেদ, মাহমুদ জামান, প্রনব বড়–য়া, মঞ্জুর রহিম, কামরুল খান লিংকন এবং শফি দেলোয়ার কাজল।
‘পালকি’র হোস্ট সংগঠন ‘বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব আমেরিকার পক্ষ থেকে আইটি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এবং চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করে উত্তর আমেরিকার প্রবাসী বাংলাদেশীদের জীবনমান পরিবর্তনে সহায়তা প্রদান ও উত্তর আমেরিকাতে বাংলাদেশী কমিউনিটির বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে ব্যাপক ভূমিকার জন্য সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয় ‘পিপলএনটেক’ এর সিইও ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিপকে। ‘বাই’র প্রেসিডেন্ট শফি দেলোয়ার কাজল একইসাথে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন ড. ফাইজুল ইসলামকেও।

প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও লেখক অধ্যাপক ড. ফাইজুল ইসলাম বলেছেন, ‘স্বদেশ-সংস্কৃতির ফল্গুধারা প্রবাস প্রজন্মে ছড়িয়ে দিতে এমন নাটকের গুরুত্ব অপরিসীম। এ ধরনের একটি চমৎকার আয়োজনে জড়িত হতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি।’  বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির ওপর গভীর পর্যবেক্ষণের আলোকে ফাইজুল ইসলাম আরো বলেন, ‘১৯৮৬ সালে প্রেসিডেন্ট রিগ্যানের ইমিগ্রেশন কর্মসূচির ফায়দা পুরোপুরি আইরিশদের জন্যে অবারিত করতে সিনেটর টেড কেনেডির ভূমিকা ছিল অপরিসীম। বস্টনের কেউই বাদ যায়নি ঐ সময় গ্রীণকার্ড পাওয়া থেকে। ১৯৯৮ সাল থেকে ভারতীয়-আমেরিকানরা কংগ্রেসে লবিং চালিয়ে ভারতের স্বার্থে অনেক কিছু তারা আদায়ে সক্ষম হয়েছেন। একইভাবে বাংলাদেশী-আমেরিকানদেরকেও সোচ্চার থাকতে হবে। আর এই কর্মধারায় উজ্জীবিত করতে হবে নতুন প্রজন্মকে। কারণ, তাদের নেটওয়ার্কে রয়েছে আমেরিকানরাও। তারা খুব সহজে বাংলাদেশের পক্ষে মার্কিন রাজনীতিকদের আকৃষ্ট করতে পারবেন।’

Washington Bangla
By Washington Bangla August 23, 2017 08:54