আশরাফ আহমেদ এর ছয়টি পুস্তক প্রকাশনা উৎসব

Washington Bangla
By Washington Bangla January 21, 2018 12:45

আশরাফ আহমেদ এর ছয়টি পুস্তক প্রকাশনা উৎসব

এন্থনী পিউস গমেজ : গত ২৬শে ডিসেম্বর প্রবাসী লেখক আশরাফ আহমেদ এর ৬টি বইএর এক প্রকাশনা উৎসবের অনুষ্ঠিত হয় ঢাকার বাংলা একাডেমির শামসুর রাহমান মিলনায়তনে। বইগুলোর নাম কলাচ্ছলে বলা, জলপরি ও প্রাণপ্রভা, অন্যচোখে বাংলাদেশ, মার্তি মনীষের প্রেতাত্মা, হৃদয়-বিদারক, এবং একাত্তরের হজমিওয়ালা। ‘আগামী প্রকাশনী’র প্রধান জনাব ওসমান গণির আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নজরুল সাহিত্য বিশেষজ্ঞ এমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।

লেখক, আমাদের ওয়াশিংটন মেট্রো এলাকার অতি পরিচিত এবং সবার প্রিয় ডঃ আশরাফ আহমেদ জানান- প্রথাগত মোড়ক উন্মোচন দিয়ে শুরু হলেও উতসবটি মূলতঃ ছিল একটি আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রায় একশত শ্রোতার সম্মুখে মোট সাতজন বক্তা তাঁদের স্ব স্ব পাঠ থেকে এক বা একাধিক বইয়ের ওপর আলোচনা এবং মন্তব্য করেন। কিশোর উপন্যাস একাত্তরের হজমিওয়ালা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক মহাব্যাবস্থাপক এবং ছয় শতাধিক পুস্তক প্রণেতা ও শিশু-কিশোর সাহিত্যিক আলী ঈমাম বলেন (বইটি) ‘নতুন প্রজন্মের কাছে শুধু নয়’ বাংলা ‘কিশোর সাহিত্যে একটি দিক খুলে দিল’। এই উপন্যাসে অনাথ বালিকা ফুলবানু এক বৃদ্ধ হজমিওয়ালার খোঁজে জয় বাংলা আচার ঘরে ঢুকতে গেলে একটি দরজা খুলে যায়। সেই দরজার ওপারে চট করে সে একাত্তরে চলে যায়। পাকিস্তানিদের বর্বরতা, যুদ্ধ ও হত্যাকাণ্ড প্রত্যক্ষ করে। সে অদ্ভুতভাবে অতীত থেকে বর্তমানে ও ভবিষ্যতে বিচরণ করে।

তিনি বলেন ‘বিশ্বসাহিত্য আর গতানুগতিক ধারায় নেই’। অক্সফোর্ডের গণিতের অধ্যাপক চার্লস লাডউইগ ডজসন বিখ্যাত ‘এলিস ইন দ্যা ওয়ান্ডারল্যান্ড’ লিখতে যে যাদু-বাস্তবতা বা ম্যাজিক-রিয়ালিজম অবলম্বন করেছিলেন, এবং পরবর্তীতে গার্সিয়া মার্কোসের যে একই যাদুবাস্তবতা ভিত্তিক লেখা বিশ্বনন্দিত হয়েছিল, তেমনি ‘অদ্ভুতভাবে এমন একটি টেকনিক ব্যাবহার করেছেন আশরাফ আহমেদ, এটি বাংলা কিশোর সাহিত্যে একটি অভিনব গ্রন্থ’। তিনি বলেন ‘বাস্তবতা যাদুর চেয়েও ভয়ংকর’! এর ভেতর দিয়ে ‘ইতিহাসের ধুসর অধ্যায়ে চলে যাওয়া যায়’। বইটি ‘এই প্রজন্মকে মনে করিয়ে দেয় হারিয়ে যাওয়া দিনগুলোর কথা’।

উচ্ছসিত প্রশংসার সাথে বইটিতে তাঁর মুগ্ধতা প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বললেন, ‘আমার কথা বলায় ডাক্তারের প্রচণ্ড নিষেধাজ্ঞা সত্ত্যেও’ (এই আলোচনায় এসেছেন)।… ‘তিন পাতা পড়েই আমি চমকে উঠলাম … আমার স্মৃতি ঝনঝনিয়ে উঠলো’। নিজ জন্মস্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পরিচিত স্থান ও ঘটনার বর্ণনা পড়ে তিনি গভীরভাবে আলোড়িত হন। পূর্ব পরিচয় না থাকা লেখকের এই বইটি পাঠিয়ে তাঁর লেখার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য প্রকাশক ওসমান গনিকে তিনি ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন ‘আমি এরকম স্টাইলের লেখা আর দেখিনি’। সবগুলো বই পড়ার সুজোগ না হলেও ‘মর্নিং শোওয দি ডে’র মত আমি একটি বই পড়েই আমি বুঝতে পারলাম আশরাফ আহমেদ একজন দুর্দান্ত, দুর্ধষ লেখক’। তিনি ‘এতোটাই নতুন আঙ্গিক এনেছেন যে সমস্ত অন্তর দিয়ে তাঁকে আমি অভিনন্দন জানাই’।

জাহাঙ্গীরনগর নিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বিজ্ঞানী এবং কয়েকটি বহুল-কাটতি গ্রন্থের প্রণেতা আনোয়ার হোসেন লেখকের বিজ্ঞান-ভিত্তিক ‘জলপরি ও প্রাণপ্রভা’ গ্রন্থ নিয়ে আলোচনা করেন। নিজের বিজ্ঞানী পরিচয়কে উল্লেখ করে বইটির ওপর ইতোপূর্বে প্রকাশিত তাঁর বিশদ লেখা ‘জলপরি ও প্রাণপ্রভাঃ স্বপ্ন ও বিজ্ঞানের আখ্যান’ এর কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন ‘বিজ্ঞানের সাথে কল্পকাহিনীর যে যোগ, বিজ্ঞানের সাথে ভালবাসার যে যোগ, বিজ্ঞানের সাথে পরিবেশের যে যোগ, এবং নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানের প্রতি আকৃষ্ট করে তুলতে এটি ‘অসাধারণ একটি বই’। লেখকের ‘অন্যচোখে বাংলাদেশ’ বইয়ের আলোচনায় তিনি স্ব-পরিবারের সাথে লেখকের সম্পর্কের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন এবং এসম্পর্কিত বইয়ের একটি ঘটনারও বর্ণনা দেন। পুরনো ঘটনা মনে রাখতে ‘বিস্ময়কর স্মরণশক্তি’ লেখকের একটি বড় সম্পদ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন অসংখ্য বই লিখে ‘গিনেস বুক অফ রেকর্ডে স্থান পাওয়ার উপযুক্ত কিশোর সাহিত্যিক আলী ঈমামকে যখন আলোড়িত করে’ (তখন বলতে হবে) ‘এই সৈয়দের (লেখকের) ভেতর কিছু আছে’। দ্বিমাসিক ‘শিক্ষালোক’ ম্যাগাজিনের সম্পাদক, কবি, নাট্যকার ও কলামনিষ্ট আলমগীর খান লেখকের সবগুলো বইয়ের ওপর সার্বিক আলোচনা করেন।

তিনি বলেন খ্যাতিমান বিজ্ঞানী হলেও আশরাফ আহমেদের ‘ছয়টি বই পড়ে বোঝা যায় তিনি উচ্চমানেরও একজন লেখক’। তাঁর লেখার বৈশিষ্ট ‘গল্পের ঢঙে কথা বলার মত করে লেখা’ ‘ভাষায় কোণ জটিলতা নেই’ এবং ‘প্রায় সব যায়গায় এমন কি খুব সিরিয়াস ধরণের লেখার মধ্যেও কৌতুক ও হাসির উপাদান দিয়ে ভরপুর’। ‘লেখা পড়লে বোঝার উপায় নেই তাঁর বয়স কত। তিনি ‘বয়স্ক ব্যাক্তি হলেও তাঁর লেখায় তারুণ্যের দীপ্তি দেখা যায়। শুধু লেখা পড়ে মনে হবে কোন তরুণের লেখা, সেখানে প্রেমের এমন চমৎকার বর্ণনা’! লেখক যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী হয়ে যথেষ্ট সুজোগ সুবিধার মাঝে বাস করেন ‘কিতু তাঁর লেখায় দেখা যায় সাধারন মানুষকে বোঝার অপূর্ব ক্ষমতা, মানুষের দুঃখ-দারিদ্র্যকে বোঝার এক আশ্চর্য ক্ষমতা তাঁর মধ্য আছে যেটা খুবই বিষ্ময়কর! যে জীবন যাত্রায় তিনি অভ্যস্ত সেই জীবন যাপনে থেকে… দরিদ্র সাধারণ মানুষের মন, তাঁদের জীবন যাপন, তাঁদের দৈনন্দিন ঘটনা এগুলোকে ধরতে পারা বুঝতে পারা, একটা বিরাট ক্ষমতা। তাঁর সেই ক্ষমতা হচ্ছে তাঁর ভালবাসা। বিজ্ঞানী হিসেবে তিনি যুক্তি দিয়ে সবকিছু দেখেন কিন্তু পরিষ্কার দেখা যায় লেখক হিসেবে তাঁর প্রধান শক্তি তাঁর ভালবাসা। লেখক মানুষকে অত্যন্ত ভালবাসতে পারেন। সমালোচনাও করেন তাতেও ভালবাসার এক ছোঁয়া পাওয়া যায়’।

‘তাঁর লেখার মধ্যে মানুষকে দেখার চোখটা অনেক তীক্ষ্ণ’। আলমগীর খান ‘একাত্তরের হজমিওয়ালা’ কিশোর উপন্যাসের অনাথ বালিকার চরিত্র চিত্রণের উদাহরণটি প্রমাণ হিসেবে উপস্থিত করেন। জীবনের কঠিনতম সময়কে সহজভাবে নেয়ার উদাহরণ হিসেবে তিনি ‘হৃদয়-বিদারক’ গ্রন্থে তাঁর নিজের হৃদরোগে মৃত্যুপূর্ব অনুভুতির অংশ বিশেষও বই থেকে পড়ে শোনান।

দুটি গ্রন্থের জনক এবং বাংলাদেশের সাবেক তত্বাবধায়ক সরকারের এক উপদেষ্টা মাহবুব জামিল নিজেকে ‘গোগ্রাসে গেলা’ এক পাঠক বলে পরিচয় দেন। লেখকের প্রথম বই ‘কলাচ্ছলে বলা’ পড়েই তিনি মুগ্ধ হয়েছিলেন। তিনি বলেন সত্যিকার অর্থে বাঙালিরা হাসতে জানে না, বা বাঙালির রসবোধ কম। কিন্তু পরসুরাম, শিবরাম চক্রবর্তী, এবং সঞ্জীব (চট্টোপাধ্যায়) জীবনের বাস্তবতার সাথে কৌতুকের সংযোগ ঘটিয়েছিলেন। ‘এরপর দেড়শ বছরে আমাদের এই ভুখণ্ডে আরেকজন লেখক’, আশরাফ আহমেদের আবির্ভাব হয়েছে। কিন্তু ‘তাঁর রসবোধ, রসরচনায় শুধু রস নয়’। তাঁর লেখায় থাকে ‘জীবনকে প্রতিফলিত করা, জীবনের চরম বাস্তবতাকে তুলে ধরা, জীবনের কঠিতমম সমস্যাগুলোকে তুলে ধরা, এবং জীবনকে পরিপূর্ণ করার দৃষ্টিতে রেখে তা লেখায় প্রকাশ করা রসের মাধ্যমে’।

তিনি বলেন আশরাফ আহমেদ একজন রোমান্টিক মানুষ, ‘তাঁর সাথে কথা বলেও রোমান্টিকতার ছোয়া পাই। বিখ্যাত রম্য লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী এবং জনৈক গোস্বামী নামে এক বন্ধুর মাঝে পত্র চালাচালির এক ঘটনা বর্ণনা করে তিনি বলেন, আশরাফ আহমেদের মৃত্যু হৃদরোগে হবে না, ‘কারণ তিনি তাঁর হৃদয়টি অনেক মানুষের মাঝে বিলিয়ে দিয়েছেন।

লেখকের বাল্যবন্ধু, কবি ও লেখক, এবং সিদীপ নামে এক এনজিও-র প্রতিষ্ঠাতা-চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইয়াহিয়া বলেন আশরাফ আহমেদ এর প্রথম বইটির প্রকাশনার সাথে তিনি ভালভাবেই জড়িত ছিলেন। ‘তিনি বিজ্ঞানী মানুষ, বিষ নিয়ে কাজ করেছেন। মানুষের কল্যাণে করা সেই কাজের কথা বিশ্বের বিজ্ঞানীরা জানেন। সেই বিজ্ঞানী যে ধীরে ধীরে ছয়টি বইয়ের লেখক হবেন তা ধারণা করিনি। কিন্তু তাঁর হাত দিয়ে আজ সুন্দর সুন্দর লেখা বের হচ্ছে। তাঁর লেখার ভিত্তি অতীত স্মৃতি, মুক্তিযুদ্ধ, বিজ্ঞান, ইতিতিহাস’। আমেরিকার পাঠকরা তাঁর লেখা সম্পর্কে কিছুটা জানলেও বাংলাদেশে তাঁর পরিচিতি নেই। তাই তিনি উপস্থিত সবাইকে অনুরোধ করেন বাংলাদেশে তাঁর পরিচিতি বাড়াতে সাহায্য করতে।

মাসুদ আহমেদ – কয়েকটি টেলিফিল্ম ও একটি চলচ্চিত্রে রূপান্তরিত দশটি ছোটগল্প ও উপন্যাসের লেখক, সঙ্গীতশিল্পী, এবং বাংলাদেশের কম্পট্রোলার অফ একাউন্টস মাসুদ আহমেদ সর্বমোট ৪২১ পৃষ্ঠার কলাচ্ছলে বলা, জলপরি ও প্রাণপ্রভা, এবং একাত্তরের হজমিওয়ালা, এই তিনটি বই পড়ে আশরাফ আহমেদের লেখার ওপর মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন বইগুলোতে লেখকের স্বকাল, স্বদেশ, একাত্তর, বাঙ্গালি চরিত্র, নারী, সমাজের অসঙ্গতি আছে, ‘এবং আরো আছে আশরাফ আহমেদ, ও আদর্শবাদ’। কিন্তু লেখক পরিচিতি না পড়ে শুধু বাক্য-গঠন, শব্দ-পুঞ্জের বাছাই দেখেই বোঝা যায় তিনি বিজ্ঞান-মনস্ক। ‘তাঁর লেখায় রস আছে বেদনা আছে’। জননী সংক্রান্ত ‘আমার মায়ের বাঁধন’ লেখাটি তাঁর সবচেয়ে ভাল লেগেছে বলে জানান। ‘লেখাটি সার্বজনীন এবং প্রত্যেককে স্পর্শ করবে’ বলে তিনি মনে করেন। নারী সম্পর্কিত লেখা (ভাবি সমাচার) আলোচনায় তিনি লেখকের বিজ্ঞান মনস্কতার উদাহরণ দেন। আমাদের বৃদ্ধ হয়ে যাওয়াকে না মানতে চাওয়াকে ‘লেখক শিল্পসম্মত ভাবে এবং রসের সাথে সমালোচনাও করেছেন। লেখক কতিপয় পাকিসানি সৈন্যের মুখে উর্দু ডায়ালগ ব্যাবহার করেছেন (একাত্তরের হজমিওয়ালা), যা খুবই বিরল’। তাঁর জানা মতে বাংলাদেশের অধিকাংশ লেখক, এমন কি হুমায়ূন আহমেদ পর্যন্ত উর্দু ডায়ালগ খুব কম ব্যাবহার করেছেন। ‘পাকিস্তানি অফিসারের মুখে উর্দু ডায়ালগ দিয়ে তিনি ঐ সময়কার ঘটনার বিশ্বাসযোগ্যতা এবং চিত্রকল্প তুলে ধরেছেন’।

জনাব মাসুদ আহমেদ বলেন বিজ্ঞান মনস্ক হলেও ‘তাঁর লেখায় কৌতুক আছে, রস আছে, জীবনে বাঁচার যে আনন্দ তা আছে, এবং এক সঙ্গে তা ব্যাকরণ-সম্মত’। ভাষা খুব সহজ। রবোন্দ্রনাথের উক্তি ‘সহজ কথা যায় না বলা সহজে’র বিপিরীতে ‘আশরাফ আহমেদ কঠিন কথাও খুব সহজ ভাবে বলেছেন’। সব লেখাতেই অব্জেক্টিভিটি বজায় রেখেছেন, নিজ থেকে কোন মন্তব্য করেন নি, কিন্তু পাঠককে ঠিকই বুঝিয়ে দিয়েছেন লেখকের কাজটা কি, কিন্তু সিদ্ধান্ত নেয়ার কাজটি রেখে দিয়েছেন পাঠকের জন্য। কিন্তু এর মাঝেও ‘একটি মেসেজ আছে, তা হচ্ছে যুক্তিবাদিতা ও বিজ্ঞান মনস্কতা’। সবশেষে তিনি আশরাফ আহমেদের লেখাকে শিল্পোত্তীর্ণ বলে অভিমত ব্যাক্ত করেন।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে নিউজার্সি থেকে আগের রাতে ঢাকায় আসা বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিজ্ঞানী ও লেখক ডঃ নূরন নবী ১৯৬৮ সাল থেকে আজ পর্যন্ত আশরাফ আহমেদের সাথে তাঁর সম্পর্কের ধারাবাহিক বর্ণনা দেন হাস্য কৌতুকের সাথে।

ঘণ্টাধিক সময়ের এই অনুষ্ঠানটি সম্মানিত দর্শকরা অত্যন্ত আগ্রহ ও মনযোগের সাথে উপভোগ করেন। প্রায় একশত শ্রোতার সারিতে ছিলেন দৈনিক সমকাল পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক অজয় দাসগুপ্ত, লেখক-অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ, সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ফারুক, নিউজার্সি থেকে আসা ডঃ মোসাদ্দেক হুসেইন, বাংলাদেশ টেলিভিশনের শিল্প নির্দেশক দিলরুবা লতিফ, আরজ আলী মাতব্বর-খ্যাত লেখক ও জনবিজ্ঞান পত্রিকার সম্পাদক আইউব হোসেন, শিল্পী শামস মনোয়ার, কবি ডঃ মালিহা পারভিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আখতারুজ্জামান, অধ্যাপক ইয়ারুল কবীর, বেঙ্গল পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশনের ম্যানেজিং ডিরেক্টার মুক্তিযোদ্ধা মকবুল এলাহি চৌধুরী, ভিকারুন্নেসা স্কুলের প্রধান শিক্ষক শামসুন্নাহার লিজা, একই স্কুলের শিক্ষক ও গ্রিন-ক্লাবের উদ্যোক্তা সাইফুল ইসলাম, শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব তশারফ হোসেন ফরাজী, কবি মরিয়ম বেগম, ডঃ তাহসিন আদনান, মওলানা ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক খলিলুর রহমান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইফ এন্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের ডীন অধ্যাপক জাকারিয়া মিয়া, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শামসুল কবীর, জার্মান প্রবাসী গত বছরের বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত সাহিত্যিক নাজমুন্নেসা পিয়ারী, এবং বেশ কয়েকজন লেখক, প্রকাশক ও ছাত্র।

সভাপতির ভাষণে অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, ক’দিন আগে এই সভায় পৌরহিত্য করার প্রস্তাব পেয়ে অনুমান করতে পারেননি যে এখানে এমন একটি বিদগ্ধ সমাবেশ তিনি দেখবেন। তিনি বলেন ‘বস্তুতপক্ষে আমাদের এখানে যেসব প্রকাশনা উৎসব হয়ে থাকে সেগুলো এতোই গতানুগতিক যে সেখানে না থাকে কোন শোনার আগ্রহ, না থাকে শ্রোতা’।

এতোসব গুণী বক্তার অভিমত শুনে তিনি রবীন্দ্রনাথ, শরতচন্দ্র, বুদ্ধদেব বসু, …, শামসুর রহমান, ও হুমায়ূন আহমেদ এর উত্তরসুরী হয়ে আশরাফ আহমেদও বাংলা সাহিত্যে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবেন বলে মনে করেন। লেখকের ছয়টি বইই মনযোগ দিয়ে পড়বেন, এবং একটি রিভিউও লিখবেন বলেও আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।

লেখক আশরাফ আহমেদ পূর্বে অপরিচিত সভাপতি, দুই আপরিচিত সহ সব বক্তাকে তাঁর বই পড়ে স্ব স্ব মন্তব্য দেয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁরা এবং দর্শকবৃন্দ ঢাকার দুঃসহ যানজটকে উপেক্ষা করে অনুষ্ঠানে আসার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। চমৎকার ও উপভোগ্য এই অনুষ্ঠানের আয়োজক আগামী প্রকাশনী এবং ওসমান গণিকেও কৃতজ্ঞতা জানান। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠানটি সুচারুভাবে সঞ্চালনা করেন সাংস্কৃতিক কর্মী শাহীন আখতার।

https://www.youtube.com/watch?v=Snmfs-NPNRA

(69)

Washington Bangla
By Washington Bangla January 21, 2018 12:45