প্যানেল প্ৰতিনিধিত্ব ছিলনা বাংলাদেশের : ওয়াশিংটনে আন্তর্জাতিক সঙ্কট নিরসন এবং অপরাধমূলক জবাবদিহিতার অভাব বাংলাদেশে বিষয়ক আলোচনা

Washington Bangla
By Washington Bangla February 2, 2018 12:58

প্যানেল প্ৰতিনিধিত্ব ছিলনা বাংলাদেশের : ওয়াশিংটনে আন্তর্জাতিক সঙ্কট নিরসন এবং অপরাধমূলক জবাবদিহিতার অভাব বাংলাদেশে বিষয়ক আলোচনা

ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির রবার্ট এফ কেনেডি হিউম্যান রাইটসের আয়োজনে গত বৃহস্পতিবার জর্জ টাউন বিশ^বিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সেমিনার হলে আন্তর্জাতিক সঙ্কট নিরসন এবং অপরাধমূলক জবাবদিহিতার অভাব বাংলাদেশে বিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। প্যানেলে বাংলাদেশের পক্ষে কোন প্রতিনিধিনিত্ব করেনি। প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহন করেন গ্লোবাল ক্রাইম জাস্টিসের অ্যাম্বাসেডর এট লার্জ ষ্টেফান র‌্যাপ, বাংলাদেশে বহুল আলোচিত টোবি ক্যাডম্যান এবং আল্মোডেনা বের্নভিউ। অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন ডেভিড ম্যককিন। অনুষ্ঠানের সামনের সারিতে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের ডেপুটি মিশন প্রধান মাহবুব হাসান সালেহ, ও কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া দর্শকসারিতে যুদ্ধাপরাধে দন্ডিত আসামিদের নিকট আত্মীয়দের উপস্থিত এবং তাদেও সাথে টোবি ক্যাডম্যানের উঠাবসা ছিল লক্ষনীয় এবং সহজেই অনুমেয় যে আলোচনা ছিল বাংলাদেশ বিরোধী একটি প্রচারনার অংশ যা যুদ্ধাপরাধের দন্ডিতদের অর্থায়নে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক গ্লোবাল ক্রাইম জাস্টিসের অ্যাম্বাসেডর এট লার্জ ষ্টেফান র‌্যাপ তার আলোচনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও তৎকালীন সময়কার যুক্তরাষ্ট্র নীতির কথা সহ যুদ্ধাপরাধীদের কথা তুলে ধরেন ও ট্রাইবুনালের পদ্ধতিগত বিষয়ের উপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন তখনকার যুক্তরাষ্ট্র সরকার ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছিলেন।

ষ্টেফান র‌্যাপ তার আলোচনায় বাংলাদেশকে নিয়ে পরবর্তী যেকোন ধরণের আলোচনায় বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি রাখার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি প্যানেল আলোচকদের আলোচনার বিরোধিতা করে বলেন, বাংলাদেশে যে আইনের শাসন চলছে। নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের মামলায় ২৩ জন র‌্যাব সদস্যের বিভিন্ন মেয়াদী কারদন্ড ও ফাঁসীর আদেশ হয়েছে। এসময় যুদ্ধাপরাধীদের এজেন্ট হিসেবে পরিচিত টোবি ক্যাডম্যানকে বিমর্ষ দেখা যায় ও তিনি কোন উত্তর দিতে সক্ষম হননি।

অনুষ্ঠানে মাত্র পাঁচ মিনিটের প্রশ্ন উত্তর সেসন পর্ব রাখা হয়। প্রশ্ন উত্তর পর্বের শুরুতেই প্যানেলে বাংলাদেশের কোন প্রতিনিধিত্ব না রাখায় মাহবুব হাসান সালেহ তার ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং আলোচকদের কাছে প্রশ্ন রাখেন যেখানে বাংলাদেশ নিয়ে আলোচনা সেখানে আলোচক হিসেবে তিনি প্যানেলে থাকলেই আলোচনা অনুষ্ঠানটি গুরুত্ব পেত।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রাক্তন প্রসিকিউটর অমর ইসলাম। তিনি প্রশ্ন রাখেন, এখানে এ ধরণের আলোচনার সরাসরি বা পিছন থেকে কারা অর্থের যোগানদাতা কারা? দন্ডপ্রাপ্ত যোদ্ধাপরাদীদের সন্তানেরা ওয়াশিংটনের মত একটি জায়গায় বাংলাদেশ বিষয়ক আলোচনায় কিভাবে উপস্থিত থাকে?

তিনি বলেন, বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল আন্তর্জাতিক মানদন্ডের ভিত্তিতেই সকল বিচার কার্য পরিচালনা করছে ও তা সম্পুর্ন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ভাবেই করছেন।অনুষ্ঠানে দস্তগীর জাহাঙ্গীর তুঘ্রীল আলোচকদের কাছে প্রশ্ন রাখেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি ধর্মনিরেপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে বিশে^ও বুকে স্থান করে নিয়েছিল সেখানে ধর্মীয় উগ্রপথীবাদীরা ধর্মের দোহাই দিয়ে ৩০ লক্ষ মানুষ ও ২ লক্ষ মায়েদের সম্ভ্রম লোট করেছে তাঁদের পক্ষ নিয়ে জর্জ টাউন ভার্সিটির মত পবিত্র ও পরিচিত প্রতিষ্ঠানে এধরণের তথাকথিত আলোচনা মানায় না।

তিনি আরো বলেন, যে সঞ্চালক বলেছেন বাংলাদেশে গত নির্বাচন সকল বিরোধী দল নাকি বয়কট করেন তা সম্পুর্ন ঠিক নয়। তিনি বলেন বর্তমান সরকার কোন একক দলের সরকার নয় তা একটি জোটের সরকার ও সংসদে কার্যকরী বিরোধী দল ও বিদ্যমান। গত নির্বাচনে একটি দল নির্বাচন থেকে বিরত থাকে এবং তা তাদের গনতান্ত্রিক অধিকার। অনুষ্ঠান শেষে অনুষ্ঠান স্থলের বাইরে স্থানীয় দেশদ্রোহীদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের উপস্থিত নেতাকর্মীরা জয় বাংলা স্লোগানে মুখরিত করে তোলে। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অমর ইসলাম, দস্তগীর জাহাঙ্গীর, আলতাফ হোসেন মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।

(11)

Washington Bangla
By Washington Bangla February 2, 2018 12:58
Write a comment

No Comments

No Comments Yet!

Let me tell You a sad story ! There are no comments yet, but You can be first one to comment this article.

Write a comment
View comments

Write a comment

Your e-mail address will not be published.
Required fields are marked*